**এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক: সার্জিস আলম**
**জাতীয় | ২১ আগস্ট, ২০২৪**
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, যারা উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষা বাতিলের দাবি করেছে, তারা মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্পর্কে অবহিত নয়। তার মতে, এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
সারজিস আলম বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু সংগঠন প্রথম দিনেই লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে, যা যৌক্তিক নয়। তারা সরকার বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে আলোচনা করে এমন কর্মসূচি দিলে বিষয়টি যুক্তিযুক্ত হতো। তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ভবিষ্যতে যদি তারা প্রশ্নবিদ্ধ কোনো কর্মসূচি দিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, আমরা তাদের সহযোগিতা করবো না।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা ক্ষতগুলো সারিয়ে নতুন পথের দিকে যেতে পারবো। কিছু মানুষ অযৌক্তিক দাবিতে রাস্তায় নেমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে।”
আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আজকের আন্দোলনকারীরা এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। আমরা খবর পেয়ে গিয়ে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি নিয়ে সচিবের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনো প্রতিনিধি না দিয়ে সচিবালয়ের উপরে উঠে যায়। পরবর্তীতে তারা আন্তঃ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সমন্বয়কদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা শুনেনি। অবশেষে শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে আলোচনা করে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।”
তিনি জানান, “আমরা পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না। কারণ পরীক্ষাই শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের একমাত্র মাধ্যম। আন্দোলনের সফলতা বা দাবির প্রক্রিয়া থাকা উচিত। প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে। তারা না শুনলে স্মারকলিপি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রথমেই রাজপথ দখলের কর্মসূচি গ্রহণ করা ঠিক হয়নি।”
